সর্বশেষ সংবাদ
এবার মোবাইল ফেলে পালালো ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা

এবার মোবাইল ফেলে পালালো ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা

বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল থেকে আবারও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। রোগী দেখার সময়কালীন বর্হিবিভাগের চিকিৎসকদের সামনে ভীড় করার অভিযোগে শনিবারও ছয়টি ব্যাগ এবং ৫টি মুঠোফোন জব্দ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল পৌঁনে ১০টার দিকে এই অভিযান চালান পরিচালক ডাঃ এসএম সিরাজুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আকস্মিক একদল চিকিৎসক ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের হাসপতালের ভেতরে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা হাসপতালের ভেতরে থাকা ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ব্যাগগুলো জব্দ করা শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে অনেকে দ্রুত সটকে পরেন। কেউ কেউ ব্যাগ ও মোবাইল ফেলে পালিয়ে যান। হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের আন্তঃবিভাগ এবং বর্হিবিভাগে সকাল সাড়ে ৯টার পর না থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছিলো। কিন্তু ওই অনুরোধ তারা মানছেন না। তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করেন। এই অভিযোগে এর আগে দুইবার তাদের সতর্ক করাসহ শতাধিক ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। হাসপাতালের বর্হিবিভাগ চলাকালীন সময় যাতে হাসপাতলের ভেতর এবং বর্হিবিভাগে কোন বিক্রয় প্রতিনিধি প্রবেশ না করে সে জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিম শনিবার তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে ব্যাগ এবং মুঠোফোন জব্দ করে। অবশ্য ক্ষমা চেয়ে মোবাইলগুলো নিয়ে গেছেন ওষুধ প্রতিনিধিরা। অভিযান পরিচালনাকারী চিকিৎসক দলের নেতা শিরিন সাবিহা তন্নী বলেন, ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ভীড় করেন। এতে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের-ই বিড়ম্বনায় পড়েন। এর আগে দুইবার অভিযান চালানোর ফলে ওষুধ কোম্পানীগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা বর্হিবিভাগে এসে টিকেট কেটে ভেতরে অবস্থান করেন। গতকালের অভিযানের সময় এ রকম কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধিকে পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের হাতে টিকেট থাকায় কিছু বলা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কোম্পানীগুলো এখন নারী বিক্রয় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। গতকাল তৃতীয় দিনের অভিযানে দুই নারী বিক্রয় প্রতিনিধির ব্যাগ সহ মোট ৬টি ব্যাগ ও ৫টি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের আলী জানান, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ দখল করে রাখেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা। রোগী দেখার সময় চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে তারা তাদের নির্দিষ্ট কোম্পানীর ওষুধ লেখার জন্য চিকিৎসকদের কাছে অনুনয়-বিনিনয় করেন। ওষুধ লেখার জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপঢৌকনও দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসকদের। অনেক সময় তারা নিজেরা কলম দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ পরিবর্তন করে নিজেদের কোম্পানীর ওষুধ লিখে দেন। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply