সর্বশেষ সংবাদ
নলছিটি থানা ঘেড়াও

নলছিটি থানা ঘেড়াও

নলছিটি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির নলছিটি থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে ওসি একেএম সুলতান মাহমুদ ও তিন এসআই’র প্রত্যাহারের দাবিতে এই ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘেরাও ও অবরোধ শুরু হওয়ার প্রায় দুই ঘন্টা পর ঝালকাঠী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবের অনুরোধে শর্ত সাপেক্ষে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কুলকাঠী ইউনিয়নের তৈকাঠী এলাকা থেকে রাজীব হাওলাদার নামে নিরাপরাধ এক যুবককে আটকের প্রতিবাদে নলছিটি থানার ওসি একেএম সুলতান মাহমুদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নলছিটি থানার এসআই জসিম উদ্দিন, এস আই বিম্পব মিস্ত্রী ও এসআই ফিরোজকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে থানা ঘেরাও করে শত শত নারী পুরুষ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা থানার সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় অভিযুক্ত ওই তিন এসআই ও ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঝালকাঠী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে নিরাপরাধ রাজীবকে ছেড়ে দেওয়ায় এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্থি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের এমন আশ্বাসের পরপরই আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে বসেন পুলিশ প্রশাসন। বৈঠক শেষে ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাচ্চু জানান,এেসআই জসিম উদ্দিন, এস আই বিম্পব মিস্ত্রী ও এসআই ফিরোজকে নলছিটি থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি মত আটককৃত নিরাপরাধ যুবক জসিম হাওলাদারকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘেরাও ও অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকরীরা জানান, আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী কুলকাঠী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে জসিম মোল্লা গত বৃহস্পতিবার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ আসামীর পরিবর্তে হাতকড়াটি ফেরত পেতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুলকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুর হাতে হাতকড়ার চাবি প্রদান করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ওই চাবি কুলকাঠি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সজিব হাওলাদারের ভাই রাজিবকে দেন। পরবর্তীতে রাজীবের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে হাতকড়াটি ফেরত পায় পুলিশ। এর জেরে ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে নলছিটি থানার এসআই ফিরোজ, এসআই জসিম ও এসআই বিম্পব মিস্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তৌকাঠি গ্রামের মৃত ফারুক হাওলাদারের দরজায় লাথি মেরে খুলতে বলে। দরজা খোলার পর পুলিশ তার ছেলে সজিবকে ধাওয়া করলে সে পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় পুলিশ সজিবের মা সেলিনা বেগম ও দাদী জোহরা বেগমকে লাথি মেরে ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে হাতকড়া উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতাকারী ফারুক হাওলাদারের ছোট ছেলে রাজিবকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ রাজিবের কাছে হাতকড়া নিয়ে পালাতক জসিম মোল্লার অবস্থান জানতে চায়। রাজিব জসিম মেল্লার সন্ধান জানেন না বললে পুলিশ তাদের কাছে থাকা গাঁজা দিয়ে রাজিবকে থানায় নিয়ে আসে। রাজিবকে গাঁজা দিয়ে আটকের ঘটনা জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাচ্চু নিরাপরাধ রাজিবকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে রাজীবের বড় ভাই সজিবের নিকট রাজিবকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এসআই ফিরোজ ও এসআই জসিম ৫০হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীরা ওই তিন এসআই ও ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। উপজেলার কুলকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, কুলকাঠী ইউনিয়নের তৌকাঠী গ্রামের মৃত ফারুক হাওলাদারের ছেলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক রাজিব হাওলাদারকে গ্রামের বাড়ি থেকে ভোররাতে আটক আনে থানায় আনে পুলিশ। রাজিবকে আটককালে পুলিশ এলাকার আরও ক’জনকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে রাখেন। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সুলতান মাহামুদ বলেন, ডাকাতি মামলায় বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই এলাকায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায়। কিন্তু আসামিকে পুলিশ না পেয়ে ফিরে আসে। ওই সময় এক যুবক পুলিশের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলো। সে মাদক সেবন করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজিব হাওলাদার নামের ওই যুবককে আটকে করে নিয়ে আসে। তবে থানা ঘেরাও করার বিষয়টি স্বীকার করেননি ওসি। তিনি আরো বলেন, আটক যুবককে কেন ধরা হয়েছে জানতে শুক্রবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুসহ বেশ কয়েকজন থানায় এসেছিল। ঝালকাঠি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর বলেন, ঘেরাও নয়, কিছু লোক থানায় আসছিল। তারা এখন চলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ও এলাকার ক’জনের সাথে বসে সমাধান করা হয়েছে। হাতকড়া  নিয়ে আসামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে পুলিশের কর্তব্যে অবহেলা বলে উল্লেখ করে  তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply