সর্বশেষ সংবাদ
নৌ-দুর্ঘটনায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার আয়োজন নেই

নৌ-দুর্ঘটনায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার আয়োজন নেই

লিটন বাশারঃ দেশে নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটলেও উদ্ধারে শক্তিশালী নৌযান নেই। যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার, পণ্যবাহী বার্জ ও ফেরিডুবি কিংবা দুর্ঘটনার পর তা নদীর তলদেশেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।  বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জলযান ‘হামজা’ ও ‘রুস্তুম’ অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে। চার বছর পূর্বে ‘নির্ভীক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে দু’টি নৌযান যুক্ত করা হয়। তারাও উদ্ধার অভিযানে হতাশ করছে। ‘হামজা’ ও ‘রুস্তুমে’র ক্রেনের উত্তোলন, ক্ষমতা ৬০ টন করে। ‘নির্ভীক’ ও ‘প্রত্যয়ে’র ক্ষমতা আড়াইশ টন করে ৫শ’ টন। কিন্তু ‘নির্ভীক’ ও ‘প্রত্যয়’ পুরনো জলযান ‘রুস্তুম’, ‘হামজা’র মত একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারে না। নতুন এই দু’টি জলযানকে একত্রে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। গভীর পানি ছাড়া চলতে পারে না ভারী এ নতুন  জাহাজ দু’টি। ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ করে কোরিয়ার ডকইয়ার্ডে নির্মাণ করা এ উদ্ধারকারী জলযান তেমন কোনো উপকারে আসছে না বলে জানিয়েছেন নৌযান মালিকরা।
‘হামজা’ সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। ‘রুস্তুম’ সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে। রুস্তুম ও হামজা ৭/৮ ফুট পানিতে চলাচল করতে পারে। ‘নির্ভীক’ ও ‘প্রত্যয়’ চলাচলের জন্য এর দ্বিগুণ গভীরতা প্রয়োজন। যদিও সংস্থার দাবি নির্ভীক ও প্রত্যয় ১০/১২ ফুট পানিতে চলতে পারে। দু’টি জাহাজ একত্রে অভিযানে না যাওয়ার ব্যাপারে সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, নিমজ্জিত নৌযানে ক্রেন যুক্ত করার পর তার সমান ওজন ‘প্রত্যয়’ ও নির্ভীককে সমান দু’ ভাগে ভাগ করে দিতে হয়। দু’টি ক্রেনের ওজন সমান না হলে বিকল হওয়ার আশংকা থাকে। উদ্ধারকারী এ জলযান দু’টি দেশে আনার পর সর্বপ্রথম পদ্মায় নিমজ্জিত ‘পিনাক-৬’ লঞ্চ উদ্ধারের জন্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র অনুসন্ধানী নৌযান নিমজ্জিত পিনাককে সনাক্ত করতেই ব্যর্থ হয়।
নদীর তলদেশে থেকে গেছে অনেক জাহাজ
সর্বশেষ গত শনিবার কীর্তনখোলা নদীতে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিমজ্জিত কয়লাবাহী বার্জ ‘মাসুম-মামুন-১’ ও আংশিক নিমজ্জিত যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘গ্রীন লাইন-২’ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ফিরেছে নির্ভীক। গ্রীন লাইনকে শনিবার রাতে ও রবিবার ভোরে দু’ দফা উদ্ধারের চেষ্টা চালায় নির্ভীক। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। নির্ভীকের কমান্ডার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্ভীকের উদ্ধারক্ষমতার তুলনায় ‘গ্রীন লাইনের’ ওজন বেশি হওয়ায় তা উদ্ধার করা সম্ভব নয়। নির্ভীকের উদ্ধার ক্ষমতা আড়াইশ টন। গ্রীণ লাইনের ওজন ৬৪৫ টন ও নিমজ্জিত কার্গোটি’র ওজন প্রায় এক হাজার টন। নৌযান দু’টি বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে ২০১৩ সালের ৯ মার্চ রাতে পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ কর্নফুলী-৫ নিমজ্জিত হলে সেটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply