» বরিশালে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়ায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Published: ০৯. অক্টো. ২০১৮ | মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরীর ইছাকাঠিতে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে খুন করে গুম করার হুমকি দেয়ায় অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে ইছাকাঠির মৃত আবু জাহের ওরফে বাবুল মিয়াজীর ছেলে ব্যবসায়ী মোঃ তানাত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার আসামীরা হলেন, ইছাকাঠির মৃত আঃ খালেক হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার ও তার ভাই মোঃ মামুন হাওলাদার, একই এলাকার মোঃ উদ্দিনের দুই ছেলে সাগর ও সৈকত এবং নাছির উদ্দিন। এছাড়া মামলায় ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী কাশিপুর বাজারের একজন মুদি দোকানি। আসামীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বাদী সাব কবলা মূলে ইছাকাঠি মৌজার জে.এল নং ১৩, এস.এ খতিয়ান নং ৯২, দাগ নং ১১৫১/১১৫৬/১১৫৮ এর মোট ১.৩৪ শতাংশ জমি মালিক। আসামী নয়ন ও মামুনের মা কুলসুম বেগম ওই জমি নিয়ে জেলা নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট আদালতে (এম.পি ১৪৪/২০১৭) মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যজিষ্ট্রেট বাদীর আবেদন না মঞ্জুর করে বিবাদীদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। বাদী তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলে ঘটনার ৫/৬ দিন পূর্বে সকাল ১০ টায় তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদার টাকা না দিলে জমি বিক্রি করতে দিবে না এবং খুন করে গুম করার হুমকি দেয়। বিষয় স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তিবর্গের কাছে জানালে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়।

৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় বাদীর বসত ঘরে প্রবেশ করে চাঁদার ৫ লাখ টাকা আগামী তিন দিনের মধ্যে দিতে বলে। বাদী প্রতিবাদ করলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় বাদীর মা এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। চাঁদার টাকার জন্য বাদীর বসত ঘরে ভাংচুর করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধণ করে। বাদীর পকেটে থাকা এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং দাবীকৃত টাকা ১৫ দিনের মধ্যে না দিলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

পরে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। এদিকে কুলসুম বেগম ওই জমি নিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন বলে জানান তানাত। মানছেন না আইন আদালতের আদেশ। মিংমাসায় বসতেও রাজি নন তিনি। সর্বশেষ এয়ারপোর্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তানাত।