» বরিশালে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট সিম বিক্রির নামে প্রতারণা

Published: ১১. অক্টো. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

অনলাইন ডেস্ক// বরিশালের মুলাদীতে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট সিম বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিম বিক্রি করার সময় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সক্রিয় হওয়ার কথা বললেও ৫ দিনে সিম সক্রিয় না হওয়ায় ক্রেতার প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। এ সিমগুলো আদৌ সক্রিয় হবে কিনা এনিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে গত ৭ অক্টোবর বরিশাল গ্রামীণফোন সেন্টারের পরিচয় দিয়ে তৃপ্তি ও ইভা নামের দুইজন নারী মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ কলেজে যায়। সেখানে তারা কলেজের অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকদের কর্পোরেট সিমের সুবিধার কথা জানিয়ে গ্রামীণফোনের একতা নামের সিম ক্রয়ের অনুরোধ জানায়।

ওই কলেজের অধ্যক্ষ এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাদের কাছ থেকে সিম ক্রয় করে। গ্রামীণফোনের নারী কর্মীরা প্রত্যেক সিমের বিপরীতে ১৫০ টাকা করে নেয় এবং সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিমগুলো সক্রিয় হবে বলে আশ্বাস দেন। এছাড়া কর্পোরেট সিমগুলো সক্রিয় হওয়ার সাথে সাথে ১৭৫ মিনিট যোগ হওয়ার কথাও জানান তারা। ওই কলেজের এক শিক্ষক জানান বৃহস্পতিবার বেলা ১টা পর্যন্ত ওই সিমগুলো সক্রিয় হয়নি। ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও সিম সক্রিয় না হওয়ায় শিক্ষকরা তৃপ্তির দেওয়া মোবাইল নাম্বারের যোগাযোগের চেষ্টা করে প্রথমে বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়।

পরবর্তীতে তৃপ্তি মোবাইল ফোনে কথা বলে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার মধ্যে সিমগুলো সক্রিয় করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু বেলা ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ক্রেতাদের সিমগুলো সক্রিয় না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গ্রামীণফোনের কর্মী পরিচয়ে তৃপ্তি ও ইভা চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদরাসা গিয়েও ১৫ টি, চরকালেখান আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০টি এবং চরকালেখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি সিম বিক্রি করেন। কিন্তু একটি সিমও সক্রিয় করা হয়নি।

একটি সূত্র জানায় যেসব কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট সিম প্রয়োজন তারা গ্রামীণফোনের কাছে চাহিদা দিয়ে সিম সংগ্রহ করবে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সিম বিক্রির বিষয়টি সন্দেহজনক। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে কয়টি সিম দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ের প্রমাণপত্র তাদের কাছে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধনকৃত সিম অন্য কোথাও বিক্রি করে দিলেও তার হিসেব প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষক। এবিষয়ে কর্পোরেট সিম বিক্রেতা তৃপ্তি প্রতারণার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান গ্রামীণফোনের কর্পোরেট সিমের সুযোগ-সুবিধার কথা জানানো হলে শিক্ষকরা সিম কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের কাছে সিম বিক্রি করা হয়েছে এবং কাগজপত্র বরিশাল গ্রামীণফোন সেন্টারে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সিমগুলো সক্রিয় করতে দেরী করছে।

গ্রামীণফোনের এসএমই পার্টনার আমিন কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ মাজহারুল ইসলাম জানান কর্পোরেট সিম নিয়ে একটু জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিটিআরসি সিমগুলো সক্রিয় করছে না। তবে গ্রামীণফোনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিটিআরসির সাথে বৈঠক করছে। যথাযথ ভাবে নিবন্ধিত সিমগুলো আগামী রবিবারের মধ্যে সক্রিয় করে দেওয়া হবে।