» বাবুগঞ্জে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব: পুলিশের সাথে গোপন চুক্তি!

Published: ১১. অক্টো. ২০১৮ | বৃহস্পতিবার

সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ // মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় ইলিশ ধরা ও বিক্রির পাশাপাশি সরবরাহ,মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে। এ আদেশ অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।

ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন ক্ষেত্রের দেশের ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইলিশ শিকার, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাত ও কেনা-বেচা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে আতাত করে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারীরা নির্বিচারে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর দিনের বেলায় লোক দেখানো অভিযান চালালেও দিনে-রাতে নির্বিচারের মা ইলিশ শিকার করছে জেলেরা।

এমনই অভিযোগের সত্যতা মিলছে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর দক্ষিণ দিকে সুগন্ধা নদীতে অর্ধশতাধিক ডিঙি নৌকা দিয়ে নদীতে জাল ফেলে দেদারছে মাছ শিকার করছে। এমন সংবাদটি স্থানীয়রা ও সাংবাদিকরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপুকে মোবাইল ফোনে অবহিত করা হলেও তিনি বিষয়টির কোন গুরুত্বই দেননি।

পরবর্তীতে বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান টিম ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড’র নেতৃত্বে উপজেলার ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর দক্ষিণ দিকে চল- মলেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জাল আটক করে। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাজদার রহমান’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার গাফলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

এদিকে নিয়মানুযায়ী মৎস্য অভিযানে থানা পুলিশের একক ভাবে নদীতে অভিযান পরিচালনা করার বিধান না থাকলেও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের কিছু অসাধু অফিসার নিজেরাই রাতদিন নদীতে চষে বেরাচ্ছেন বলেন অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানিয়েছেন, মীরগঞ্জ ও রাজগুরু এলাকার কতিপয় অসাধু জেলেরা বাবুগঞ্জ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ইতিমধ্যেই চুক্তিতে উপজেলার আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা ও সন্ধ্যা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন।

সূত্রটি আরো জানিয়েছেন, উল্লেখিত এলাকার জেলে মাহাবুল, কালু, সুজন, আলম, করিম, মোস্তফা এরা প্রতিদিন রাজগুরু এলাকার দক্ষিন ভুতের দিয়া নূরানী মাদ্রাসা এলাকায় গোপনে বাবুগঞ্জ থানার ওসির সাথে চুক্তি করে মাছ শিকার করছেন।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিবাকর চন্দ্র রায় বলেন এ ধরণের কোন চুক্তির বিষয় আমার জানা নেই। কিছু অসাধু জেলে নিজেদের স্বার্থের জন্য মিথ্যা অপপ্রচার করছেন।