» ঝালকাঠী-১ আসনের ভোটারদের এত দাম ?

Published: ১২. অক্টো. ২০১৮ | শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক// একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৩০০ আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন।

ভোটার তালিকায় দেখা গেছে- সর্বোচ্চ ভোটার ঢাকা-১৯ আসনে, ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন। আর সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠী-১ আসনে, ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন। অবাক করার বিষয় হচ্ছে- ভোটার সংখ্যায় চার গুণের ব্যবধান থাকলেও আসন দুটির নির্বাচনে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয় সমান, ২৫ লাখ টাকা করে।

এর অর্থ ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থীরা ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৩৫ পয়সা খরচ করার সুযোগ পাবেন। বিপরীতে ঝালকাঠী-১ আসনের প্রার্থীরা ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১৪ টাকা খরচের সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি মাথা পিছু ব্যয় ৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ইসি। কিন্তু, ওই হারে প্রার্থীরা টাকা ব্যয় করেছিলেন কিনা তা মনিটরিংয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছিল না। তবে এবার নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর ৪৪ ধারায় নতুন বিধান সংযোজনে ইসির আইন সংস্কার কমিটি সুপারিশ করলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন। তাই প্রার্থীরা ব্যয়ের যে হিসাব জমা দিবেন, সেটিই বিশ্বাস করতে হবে ইসিকে।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপে নির্বাচনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় তারা নানা ধরনের প্রস্তাবও দেন। এছাড়া ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাও আরপিও সংশোধনে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই সব প্রস্তাবের আলোকে ইসির আইন সংস্কার কমিটি আরপিওতে ৪৪বি(৬) ও ৪৪সি(৪) নামে দুটি উপধারা সংযোজনের প্রস্তাব করেন।

৪৪বি(৬) এ বলা হয়েছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি আসনে একটি করে মনিটরিং কমিটি থাকবে। ওই কমিটি প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় মনিটর করবে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহ শেষে প্রার্থীরা ব্যয়ের রিপোর্ট দেবেন। ওই রিপোর্ট ও কমিটির পর্যবেক্ষণসহ তা ইসিতে পাঠাবেন।

আর ৪৪সি(৪)- এ নির্বাচনে অবৈধ টাকার প্রভাব রোধ, নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারিত টাকার মধ্যে রাখা এবং ব্যয় যথাযথভাবে করা হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য অডিট কমিটি গঠনের বিধান সংযোজনের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু, কমিশন এসব প্রস্তাব আমলে না নিয়েই আরপিও সংশোধনের সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়।

ইসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভোটার তালিকার সিডি মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে পাঠিয়েছে ইসি, যা দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মাঠ পর্যায়ে পাঠানো তালিকা থেকে জানা যায়, দুটি আসনে ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৭ লাখের কাছাকাছি, দুটি আসনে ৬ লাখের বেশি ও অন্তত ৮টি আসনে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত ভোটার রয়েছে।

অন্যদিকে চারটি আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখের কম। ৪ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে ৫০টি আসনে। বাকি আসনগুলোতে ২ থেকে ৩ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে।

এই তালিকা তৈরির পর যারা ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন অথবা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন, তাদের জন্য সম্পূরক ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকার ২০টি আসনের ভোটার তালিকায় দেখা গেছে— ঢাকা-১: মোট ভোটার ৪৪০৪০৭, পুরুষ ২১৬৮০৫, নারী ২২৩৬০২; ঢাকা-২: মোট ভোটার ৪৯৪৩১৩, পুরুষ ২৫৪৫৯২, নারী ২৩৯৭২১; ঢাকা-৩: মোট ভোটার ৩১১৬৪৭, পুরুষ ১৫৮৮৬০, নারী ১৫২৭৮৭; ঢাকা-৪: মোট ভোটার ২৪৫৯০৮, পুরুষ ১২৮৫১৩ নারী ১১৭৩৯৫; ঢাকা-৫: মোট ভোটার ৪৫০৭২৫, পুরুষ ২৩১৫৯২, নারী ২১৯১৩৩; ঢাকা-৬: মোট ভোটার ২৬৯২৭৬, পুরুষ ১৪৩০৮১, নারী ১২৬১৯৬; ঢাকা-৭: মোট ভোটার ৩২৮২৬৯, পুরুষ ১৭৫২৫০, নারী ১৫৩০১৯; ঢাকা-৮: মোট ভোটার ২৬৪৮৯৩, পুরুষ ১৫২১০৭, নারী ১১২৭৮৬; ঢাকা-৯: মোট ভোটার ৪২৫৫৭১, পুরুষ ২১৫৭৬২, নারী ২০৯৮০৯; ঢাকা-১০: মোট ভোটার ৩১৩৭৫৮, পুরুষ ১৬৯৮৫১, নারী ১৪৩৯০৪; ঢাকা-১১: মোট ভোটার ৪১৫৫৫৫, পুরুষ ২১২০৭৩, নারী ২০৩৪৮২; ঢাকা-১২: মোট ভোটার ৩৩৯৯৩৮, পুরুষ ১৮০৩৭০, নারী ১৫৯৫৬৮; ঢাকা-১৩: মোট ভোটার ৩৭২৭৬৯, পুরুষ ১৯২৬১২, নারী ১৮০১৫৭; ঢাকা-১৪: মোট ভোটার ৪০৬৫৩৪, পুরুষ ২০৮০৪৪, নারী ১৯৮৪৯০; ঢাকা-১৫: মোট ভোটার ৩৪০৫২৮, পুরুষ ১৭৫১০৪, নারী ১৬৫৪২৪; ঢাকা-১৬: মোট ভোটার ৩৭৪৩৪০, পুরুষ ১৮৯১৮৩, নারী ১৮৫১৫৭; ঢাকা-১৭: মোট ভোটার ৩১৩৯৯৮, পুরুষ ১৬৮০০০, নারী ১৪৫৯৯৮; ঢাকা-১৮: মোট ভোটার ৫৫৫৭১৩, পুরুষ ২৮৬১৫১, নারী ২৬৯৫৫৫; ঢাকা-১৯: মোট ভোটার ৭৪৭৩০১, পুরুষ ৩৮৬০৪৭, নারী ৩৬১২৫৪ এবং ঢাকা-২০: মোট ভোটার ৩২০১৪৫, পুরুষ ১৫৮৪৬০, নারী ভোটার ১৬১৬৬৫।