» বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন যে ৭৫জন…

Published: ১২. অক্টো. ২০১৮ | শুক্রবার

অনলােইন ডেস্ক// আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে অনেক নির্বাচনী এলাকায় বর্তমান সাংসদের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বিরোধ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের বিপরীতে প্রায় দেড়শ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, যা আগামী নির্বাচনে চারশর অধিক দাঁড়িয়েছে। তবে আলোচনায় আছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় ৮০ জন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৭৫ জনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে ২১ আসনের মধ্যে ১৭টি আওয়ামী লীগ, দুটিতে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), একটিতে জাতীয় পার্টি (জেপি) ও একটিতে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জয়ী হন। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। এ জন্য হাইকমান্ড ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে জয়লাভ করতে পারবেন, এমন সব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সরকার বিরতিহীনভাবে দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকায় অনেক নেতা স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। তাদের অনেকেই পৃথক বলয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

২১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আলম ও বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান হাওলাদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মিঠু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা মোশতাক আহমেদ সেন্টুর ভাই মোস্তাফিজুর রহমান নিলু। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার শাম্মী আহম্মেদ, বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু, মেজর (অব) নাসির উদ্দিন ও বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন ইসলাম।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম, লঞ্চমালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ (বীরবিক্রম) ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব) আবদুল হাফিজ মল্লিক, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, সাবেক এমপি পারভীন তালুকদার, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল আলম চুন্নু ও সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়া।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন) এমপি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মুনিরুজ্জামান মনির, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. এমএ হান্নান ফিরোজ। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এমপি, সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ শাহ আলম, পিরোজপুর পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শফিউল হক মিঠু।

পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ হাকিম হাওলাদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী খান পান্না ও আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুর রহমান ছগির। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী, পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান।

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) আসনে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম এবং দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হাওলাদার। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা ও শিল্পপতি এসএম ফিরোজ। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মহব্বত প্রিন্স ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা নান্টু। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার এমপি, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়ার পৌর মেয়র বিপুল হালদার, আওয়ামী লীগ নেতা কর্নেল (অব) হাবিবুর রহমান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি মুরসালিন আহমেদ ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ বেপারী।

বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সম্ভু এমপি, সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক উপকমিটির সহসম্পাদক মশিউর রহমান শিহাব, ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী মো. শাহ আলম, সাবেক এমপি মরহুম নিজাম উদ্দিন তালুকদারের ছেলে এলমান আহমেদ সুহাদ ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সরোয়ার ফোরকান। বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) আসনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমন এমপি, বরগুনা পৌর মেয়র ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, প্রয়াত সাবেক সাংসদ গোলাম সবুর টুলুর মেয়ে ও পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারজানা সবুর রুমকি, বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল হোসেন সিকদার ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার।

ভোলা-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আজম মুকুল এমপি, নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছেলে আশিকুর রহমান শান্ত ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার। ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন ও লালমোহন) আসনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরনবী চৌধুরী শাওন, সাবেক এমপি মেজর (অব) জসিম উদ্দিন ও তজুমদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন দুলাল। ভোলা-৪ (মনপুরা ও চরফ্যাশন) আসনে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী এবং চরফ্যাশন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি। দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনের সব স্তরকে শক্তিশালী ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। এ দলের নেতাকর্মী যেমন অসংখ্য, তেমনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার দৌড়েও সংখ্যাটি বড় থাকে। ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বলেন, বিগত দিনের চেয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী সংগঠন। আগামী নির্বাচনে যোগ্য ও প্রভাবশালী প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ করছে।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, আগামী নির্বাচন কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ এখন একাধিক গ্রুপ, উপগ্রুপে বিভক্ত। আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে প্রার্থীর সংখ্যা অন্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। তার পরও একক প্রার্থী নির্ধারণে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।