সর্বশেষ সংবাদ

» ভোলায় নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারের ধুম

Published: ০২. নভে. ২০১৮ | শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক// ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন দিনরাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার জেলেরা। মৌসুমের শেষে এসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেয়ে খুশি জেলেরা।

সরেজমিনে জানা যায়, দীর্ঘদিনের আকাল কাটিয়ে ইলিশে ভরে উঠেছে ভোলার মেঘনা পাড়ের মাছঘাটগুলো। নদী থেকে ইলিশ বোঝাই করে হাসিমুখে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। শেষ মৌসুমে ধরা পড়া ইলিশ দিয়ে পুরো মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা জেলেদের।

জেলেরা জানায়, মৌসুমের শুরু থেকে ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়ায় ছিল ইলিশের আকাল। এরই মধ্যে চলে আসে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান। অক্টোবরের ৭ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদীতে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। এসময় চলে অভিযান। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন নদীতে নেমেছেন ইলিশ শিকারে।

জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ইলিশ আহরণ হচ্ছে বলে জেলেরা জানিয়েছে।

এখানকার জেলেরা বলছেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাস ইলিশের প্রধান মৌসুম হলেও চলতি বছর ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়াসহ উপকূলীয় জেলেদের কাছে অনেকটা দুর্লভ ছিল ইলিশ। আর তাই অভাব অনটনে দিন কেটেছে তাদের। অবশেষে হতাশা কাটিয়ে মাছঘাটগুলোতে ফিরে এসেছে ব্যস্ততা। প্রতিটি জোয়ার ভাটায় নৌকা-ট্রলার বোঝাই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। মৎস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে জেলার মেঘনার ও তেতুলিযা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মেট্রিক টন ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার জেলে মো. শহিদ মাঝি জানান, ‘মৌুসমে শুরু থেকে প্রায় পাঁচ মাস নদীতে গিয়ে শুধু লোকসান গুণছেন। তবে অভিযান শেষের কয়েক দিনে তাদের নৌকায় যে ইলিশ পেয়েছেন তা নিয়ে তারা বেশ আনন্দিত।’

জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটের জেলে নুরু মাঝি জানান, ‘শুরু থেকে তারা মাছ না পেয়ে দাদন ও ঋণের টাকা খরচ করে খেয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক দিন নদীতে যে পরিমানে মাছ ধরা পড়ছে এটা যদি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকে তাহলে তারা দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।’

সদর উপজেলার তুলাতুলি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. ইউনুছ জানান, ‘মৌসুমের শুরুতে তারা ঘাট থেকে কোনো ইলিশ কিনতে না পারলেও গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ কিনে বিক্রি করছেন। এটা কিছু দিন চলমান থাকলে সবাই লাভবান হতে পারবে।’

ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর মা ইলিশের অভিযান সফল হওয়ায় এ বছর জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। এরকম যদি প্রতি বছর মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল করা যায় তবে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।