সর্বশেষ সংবাদ

» বরিশাল ও ভোলায় উচ্চ পাওয়ারের গ্যাসের সম্ভাবনা দেখছে বাপেক্স

Published: ০৪. নভে. ২০১৮ | রবিবার

অনলাইন ডেস্ক// জামালপুর ও শরীয়তপুরে গ্যাস কূপ খনন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। এরমধ্যে জামালপুরে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করা হলেও শরীয়তপুরে এখনও ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়নি। তবে বাপেক্স বলছে, দ্বিতীয় মাত্রার ভূ-কম্পন জরিপের ফল বিশ্লেষণ করে দুই জায়গাতেই নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের আশা দেখছে তারা। যদিও কূপ খনন করার আগে নিশ্চিত করে কোথায় গ্যাস রয়েছে, তা বলা সম্ভব নয়। এর বাইরেও স্থলভাগে আরও পাঁচটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে বাপেক্স।এখন দেখা যাচ্ছে বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে ভোলা, বরিশাল ও শরীয়তপুরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বাপেক্স জানায়, জামালপুরে কূপ খননের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জের জোড়াখালি ইউনিয়নে নিতান্তপুর গ্রামে কূপটি খনন করা হবে।

বাপেক্স-এর ভূ-তত্ত্ব বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুরে অনেক বড় জায়গা নিয়ে দ্বিতীয়মাত্রার জরিপ করা হয়েছে। এখানেও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের তিন হাজার লাইন কিলোমিটার এলাকায় দ্বিতীয় মাত্রার জরিপ করা হয়েছে। এখন প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।এরপর নির্দিষ্ট করে বলা যাবে, ঠিক কোথায় কূপ খনন করা হবে।

বাপেক্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনুসন্ধানের সময় যে ধরনের তথ্য মিলেছে, তাতে আমরা আশাবাদী।তবে কূপ খনন না করা পর্যন্ত করে গ্যাস আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয়।’

বাপেক্স বলছে, নতুন গ্যাস স্ট্রাকচার (কাঠামো) চিহ্নিত করতে দেশে বর্তমানে দ্বিমাত্রিক জরিপ চলছে দুইভাবে। চীনের সিনোপ্যাকে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাই দু’টি ব্লকে দ্বিতীয় মাত্রার জরিপ করছে বাপেক্স। সিনোগ্যাকের প্রকল্পটি ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ৩ হাজার লাইন কিলোমিটার জরিপ করার কথা ।এরমধ্যে তারা ২ হাজার ১৫০ লাইন কিলোমিটারের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। তারা দেশের ব্লক ৩ বি, ৬ বি এবং ব্লক ৭-এ কাজ করছে।

এদিকে, বাপেক্স নিজেরাই ৪ ও ১১ নম্বর ব্লকে কাজ করছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের এই ব্লকগুলো অবস্থিত। তিন হাজার লাইন কিলোমিটার জরিপ করা হবে। এরমধ্যে ৮১০ লাইন কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছৈ। এখন বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণ চলছে। আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত জরিপের কাজ করবে বাপেক্স। ঢাকা বিভাগের যেসব অঞ্চলে বাপেক্স দ্বিমাত্রিক জরিপের কাজ করছে, সে সব অঞ্চল হলো—বাজিতপুর, নিকলি, কুলিয়াচর, কটিয়াদি, পাকুন্দিয়া, ইটনা, হোসেইনপুর, কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, ভৈরব, বেলাবো, মনোহরদি, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর সদর, মির্জাপুর, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, সখিপুর, কালিহাতি, ঘাটাইল, ভুয়াপুর, গোপালপুর, মধুপুর ও নগরপুর।

ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে বকশিগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মিলনদহ, জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ি, শ্রীবরদি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরিপুর, ধোবাউরা, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা সদর, মদন, পুর্বধোলা, দুর্গাপুর, কালমাকান্দা, আতপাড়া, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টায় জরিপ করছে বাপেক্স। এছাড়া সিলেটের মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেরিতে হলেও অনুসন্ধান কাজ করছে বাপেক্স। কাজটি কারিগরিভাবে খুবই জটিল।দেশের সব জায়গায়ই গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে দেশের সিলেট অঞ্চলে গ্যাস পাওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।এখন দেখা যাচ্ছে বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে ভোলা, বরিশাল ও শরীয়তপুরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।