সর্বশেষ সংবাদ

» বরিশাল-৬ আসনে জাপাকে ছাড় দিতে নারাজ আ’লীগ, দলীয় বিরোধ বিএনপিতে

Published: ০৪. নভে. ২০১৮ | রবিবার

শামীম আহমেদ ॥ একসময় বাকেরগঞ্জ ছিল জেলা। ছিল ১৩ জমিদারের বসবাস। জেলা থেকে বাকেরগঞ্জ এখন উপজেলা। একটি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলা সংসদীয় আসন বরিশাল-৬। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি এখানে খুবই মজবুত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার অবস্থা। তবে জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ এই আসনে ছাড় দিচ্ছে জাতীয় পার্টিকে। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে এ নিয়ে রয়েছে তীব্র অসন্ত্মোষ। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই আসনটি আর জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে চান না।

অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিতে এই সমস্যা না থাকলেও দলটির ভেতরে রয়েছে বিরোধ।
সংসদের বর্তমান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির মহাসচিব রম্নহুল আমিন হাওলাদারের নির্বাচনী এলাকা বাকেরগঞ্জ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে তিনি এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র নাসরিন জাহান রত্না আমিন। ২০১৪ সালে রম্নহুল আমিন আসনটি ছেড়ে দেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী রত্না আমিনকে। তিনি নির্বাচন করেন পটুয়াখালী সদর আসন থেকে।

তবে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। পৌরসভার মেয়র এবং ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা। ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও আওয়ামী লীগের। যদিও নির্বাচনে দুটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলে তাদের অবস্থান ছিল শেষের দিকে। এছাড়া ১৯৯৬ সালে এই আসনে মাসুদ রেজা ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। সেই হিসেবে আসনটি আওয়ামী লীগের। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট হলে আগামী নির্বাচনেও রত্না আমিন জোটের মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির নেতারা।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি অন্য কোনো দলকে দেবে না তারা। নিজেদের আসন নিজেদের হাতেই রাখা হবে। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয় দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মলিস্নককে। পরে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় এরশাদের জাতীয় পার্টিকে। আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেই মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। এসব বিবেচনায় এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন দলের ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ,উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মলিস্নক, বাকেরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম চুন্নু, পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মাসুদ রেজার স্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্য আইরীন রেজা।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের কাউকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী করার কথা ভাবছেন। কারণ, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। এমনকি তিনি এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেননি।

এ ব্যাপারে আবদুল হাফিজ মলিস্নক বলেন, ভোটের মাঠে এখানে যেকোনো দলের চেয়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এখানে নির্বাচনে জিতলেও এর পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থন। আ’লীগের নেতাকর্মীরাই দিন-রাত পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের বিজয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছিল। এ অবস্থায় মনোনয়ন প্রশ্নে নেত্রী এসব বিষয় মাথায় রাখবেন বলেই তাদের বিশ্বাস।
এবার আ’লীগের মনোনয়ন চাইবেন ১৯৯১ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। তিনি দলের বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে বরিশাল-৬ আসনে নির্বচনের জন্য মনোনয়ন দেন। কিন্তু পরে দলের সিদ্ধান্ত্মে আটদলীয় ঐক্যজোটকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। তবে এলাকার জনগণ থেকে কখনো দূরে সরে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, যেহেতু প্রকৌশল সাইটে তার একটা শক্ত অবস্থান রয়েছে, তাই তাকে মনোনয়ন দিলে আর নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন। ইতোমধ্যেই এলাকার একাধিক রাস্তা নির্মাণ করিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল আলম চুন্নু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলের বাস্ত্মবতায় এই আসনটি তাদের ঘাঁটি। ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সংগঠিত করে আসছেন। ফলে ১৯৯৬ সালে এই আসনটি পুনরম্নদ্ধার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গেল স্থানীয় নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীরা সবাই বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু পরপর দুইবার এখানে জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে এই এলাকাটি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল থেকে শুরম্ন করে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটাই দাবি, এবারের নির্বাচনে তিনি যেন নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন। তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীও তৃণমূলের দাবি মেনে নেবেন।

এই দলের আরেক প্রার্থী জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার প্রিন্স ইলাহী বলেন, জনগণ এখন নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়। চায় উন্নয়ন। দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটা বাস্ত্মবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বরিশাল-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তাই ব্যক্তিগতভাবে তিনি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তাই দল এসব বিবেচনা করবে বলে আশা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ প্রসঙ্গে রত্না আমিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে সব উন্নয়নমূলক কাজ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করেছেন। তাদের সঙ্গে কোনো মতবিরোধ নেই। তারাও বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, মহাজোটের অন্যতম শরিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি যে আসনগুলোর চাহিদা পাঠায়, সেই তালিকার শীর্ষ ভাগেই বরিশাল-৬ আসনটি থাকে। তার বিশ্বাস, আগামীতেও এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে মহাজোট উপহার দেবে।

এই আসনে নির্বাচন করার কথা রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোহসীনের। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে বহু বছর ধরে তিনি এই এলাকায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানা কর্মকা-ে অংশ নিয়ে আসছেন এবং প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা মোহসীন বলেন, সারাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বিগত ৯ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেননি। উল্টো সামাজিক নিরাপত্তার টাকা তিনি নয়ছয় করেছেন। তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন থেকে বাকেরগঞ্জকে রক্ষা, স্কুল উন্নয়ন এবং সর্বশেষ গোমা ব্রিজ প্রকল্প নিজের প্রচেষ্টায় একনেকে অনুমোদন করিয়েছেন। ইতোমধ্যেই এ কাজ শুরম্ন হয়েছে। শিক্ষানুরাগী হিসেবে ইতোমধ্যে এলাকায় তার একটা শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই এলাকার জনগণের জন্য কাজ করতে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন দাবি করে তিনি বলেন, মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রশ্নে খুব একটা ঝামেলা না থাকলেও এখানে দলের অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল প্রকট। দলে একক আধিপত্য বিস্ত্মারের অভিযোগ রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খানের বিরম্নদ্ধে। ২০০১ সালে জাসদ থেকে বিএনপিতে এসেই আবুল হোসেন খান এই আসনে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে মহাজোট থেকে নির্বাচন করেন রম্নহুল আমিন হাওলাদার। সে সময় তিনি বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই রম্নহুল আমিনকে ভোটে বিজয়ী করেন। শুরম্ন থেকেই আবুল হোসেনের লক্ষ্য ছিল সব বিরোধিতা হটিয়ে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে তিনি কাজও করেছেন। তবে উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ এতে বাঁধ সাধে। এরপরও বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে সুশৃঙ্খল করতে আবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র একটি কমিটি করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনিই যে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন, সেটা যেমন নিশ্চিত, তেমনি তিনি নিজেও বলেছেন এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার কথা।

নির্বাচনের ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন বলেন, এখানে বিএনপিতে কোনো রকম অন্ত্মর্দ্বন্দ্ব কিংবা কোন্দল নেই। কেউ যদি তেমন কিছু বলে থাকে তো মিথ্যা বলেছে। সামান্য ঝামেলা হয়েছিল, সেটা মিটিয়ে ফেলেছেন। এ ছাড়া এখানে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে তাকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। সে অনুযায়ী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

অবশ্য, আবুল হোসেন খানের এই বক্তব্য মানতে নারাজ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. শহীদ হাসান খান। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শহীদ হাসান খান বলেন, জাতীয় পার্টি, জাসদ আর বাকশালের সাবেক নেতাদের নিয়ে আবুল হোসেন কমিটি করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে টাকা নিয়ে যাদের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন, তারা ২০০-৪০০ ভোট পেয়েছেন। মামলা-হামলা এড়াতে অবস্থান করেছেন বরিশালে, খোঁজ রাখেননি কর্মীদের। তাকে শুধু কর্মীরা নয়, কেন্দ্রীয় বিএনপি বয়কট করবে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বহু দিন ধরেই বাকেরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রম্নপ রয়েছে। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন আবুল হোসেন খান এবং অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবদুস শুকুর বাচ্চু বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি ছাত্রদল থেকেই সম্পৃক্ত। জেল-জুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তবুও তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরাই চাচ্ছেন তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। তবে তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বললে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. ইউনুস খান ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য হন। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খান। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম আনোয়ার চৌধুরী বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হন। ওই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিকে হটিয়ে আসনটি দখল করেন আওয়ামী লীগের মাসুদ রেজা।