সর্বশেষ সংবাদ

» জোট মহাজোটের মারপ্যাচে বরিশাল-৩ আসন! কিন্ত সমীকরন বলছে ভিন্ন কথা!

Published: ০৭. নভে. ২০১৮ | বুধবার

সাইফুল ইসলাম,বাবুগঞ্জ|| একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এ আসনের জনপদ। মোটর সাইকেল শো-ডাউন, সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রত্যান্ত গ্রামের অভিমানী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে কুশলাদি বিনিময়, অসুস্থদের সাথে সাক্ষাৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে এই আসনে রাজনীতিতে ততই নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এ দুটি উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন মোট ভোটার বাবুগঞ্জে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৫৪ ও মুলাদী উপজেলায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৫৮,মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫১২ এবং মোট কেন্দ্র সংখ্য ১২৩ টি ।

এক সময় বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত এ আসনটি ২০১৪ সালে ভোট যুদ্ধে, মহাজোটের প্রার্থীর দখলে নেয় । বর্তমান সংসদ সদস্য ও ওয়াকার্স পার্টির সমর্থিত একাদশ সংসদ সদস্য প্রার্থী এ্যাড. শেখ েেমাঃ টিপু সুলতানের দাবি মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এ আসনটিতে তিনি। সে লক্ষে প্রতিনিয়তই তিনি সভা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ইতিমধ্যেই কেন্দীয় ওয়াকার্স পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরিশাল-৩ আসনে তাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেন বিগত শাসন আমলে বরিশাল-৩ আসনের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। আমি জনগনের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পৃক্ত থেকেছি। আমি আশাবাদী আমাগী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে দলীয় মনোনায়ন দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে আগামী ১১ নভেম্বর বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওয়াকার্সপার্টির আয়োজিত জনসভায় বরিশাল-৩ আসনের ১৪ দলের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে এ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতানের নাম ঘোষনা করতে পারেন বলে একটি সূত্রে জানাগেছে।

এছাড়াও ওয়াকার্স পার্টির গণসংগঠন কেন্দ্রীয় যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক বরিশাল-৩ আসনের সাধারণ জনগণের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিবির সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাধারণ মানুষের সাথে নিবির সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সমস্যা সমাধানে, সুখে কিংবা দুঃখে পাশে থাকছেন যখন যেভাবে পারছেন পাশে দারিয়েছেন। বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যান মন্ত্রীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত,বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক ইতিমধ্যেই নিজ নির্বাচনী এলাকা বাবুগঞ্জ-মুলাদীর মানুষের সাথে একের পর এক গণসংযোগ, মতবিনিময়, সভা-সমাবেশের মধ্যে দিয়ে তাদের কাছে যেতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিনিয়তই ছুঁটছেন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন পাড়া-মহল্লায়। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ হয়ে উন্নয়নের মানুষিকতা নিয়ে প্রতিটি সভা-সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই মানুষটি তুলে ধরছেন বর্তমান সরকারে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা ইতিবাচক কাজের ফিরিস্থি। ইতিমধ্যেই তিনি এ আসনটির সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলমত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ আমাকে সমর্থন দিবেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুও জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। নির্বাচনী মাঠে জাতীয় পার্টির প্রতিদন্ডী তেমন কোন হেভিওয়েট প্রার্থী নেই। যে কারণে এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে রয়েছে এ আসনটি। ইতিমধ্যে গোলাম কিবরিয়া টিপু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেন এ আসনটির ১৩ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি এলাকার জনসাধারণের সাথে মতবিনিময়, সভা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের দোড়গোরায় পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন। গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন জোট ভুক্ত নির্বাচন হলে বরিশাল-৩ আসনে মহাজোটের একক প্রাথী হিসেবে মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

অপরদিকে ১৯৭৫ পরবর্তী নৌকা প্রতিকের কোন প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ায় এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের জেলা উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ,কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান মিজান দলীয় প্রতিকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাইবেন বলে প্রচারণা নিজেদের জনগনের সাথে সম্পৃক্ত রাখেছেন। এই আসনে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সিরাজ উদদীন আহম্মেদ বলেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার রোল মডেল। তাই বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুাতয়ন, রাস্তা-ঘাট ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণসহ পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেশের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,পায়রা সমুদ্র বন্দর স্থানপনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের আমুল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন ২০১৪ সালে আমি নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেয়েছি কিন্তু জোট ভুক্ত নির্বাচনের কারণে জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি আশা করি দলের হাইকমান্ড আমাকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিবেন এবং সর্বস্থরের নেতা কর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমার পক্ষেই কাজ করবেন।

অপরদিকে হারানো আসনটি আসনটি ফিরে পেতে নতুন আমেজে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে বিএনপি । ২০১৪ সালে এ আসনটি হারান বিএনপি। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকায় ও নেতা কর্মীদের নামে মামলা থাকায় কতটা আগাতে পারবেন আগামী নির্বাচনে সেটা নিয়েও চিন্তিত বিএনপির নেতাকর্মীরা বলে জানাগেছে। বিএনপির দুই কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান ও এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থীর বিষয়টি জানান দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে তাদের প্রার্থীতার বিষয়টি। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান প্রাশ^য়ই বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে সাধারণ জনতা ও নেতার্কীদের সাথে কুশল বিনিময় ও এলাকায় গনসংযোগ করেন। বিপরীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি সুপ্রিমকোট বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বছরে হয়তো একবার দু’বার এলাকার আসলেও বাবুগঞ্জে আসেননা বললেই চলে। যে কারণে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করেন অনেক নেতাকর্মীরাই তার উপর নাখোষ।

এছাড়াও বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা বাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। ইতিমধ্যেই প্রার্থী হিসেবে তিনি জোরালো প্রচারনার মাধ্যমে নিজেদের অস্থিত্ব জানান দিয়ে ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করতে সক্ষম হয়েছেন। মুলাদী ও বাবুগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চল ও হাট-বাজারে গন-সংযোগ,পথসভা ও লিফলেট বিতরন করছেন। ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা ৪৭ বছরে জনগণ আওয়ামী লীগ শাসন দেখেছে, বিএনপির শাসন দেখেছে, জাতীয় পাটির্র শাসন ও সেনা-সমর্থিত সরকারের শাসনামল দেখেছে। এতে তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। এই দেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিান হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি, এমপি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। তাই এদেরকে জনগণ আর দেখতে চায়না না। তারা পরিবর্তন চায়। যদি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, জনগণ যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে আমরা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন এক চমক দেখাবো ইনশাআল্লাহ্।