সর্বশেষ সংবাদ

» দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের আরও একটি স্বপ্নেরসেতু নির্মাণের কাজ শুরু

Published: ০৭. নভে. ২০১৮ | বুধবার

অনলাইন ডেস্ক// পিরোজপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের আরও একটি স্বপ্নের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটির অবস্থান হচ্ছে বিভাগীয় শহর বরিশাল ও খুলনার মধ্যবর্তী কচা নদীর ওপর বেকুটিয়া এলাকায়। এ সেতুটি নির্মাণে ৮২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে গভীর সমুদ্র বন্দর পায়রা, সাগরকন্যা কুয়াকাটা ও বিভাগীয় শহর বরিশালের সাথে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল, শিল্পনগরী ও বিভাগীয় শহর খুলনা এবং সমুদ্রবন্দর মংলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এ সেতুটি বাস্তবায়ন করছে। ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ১৩.৪০ মিটার প্রস্থের এ সেতুটির স্প্যান সংখ্যা রয়েছে ৯টি, পিলার সংখ্যা ৮টি, এ্যাবাটমেন্ট সংখ্যা ২টি, ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স ২৮.৯৮ মিটার, হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ১২২ মিটার এবং উভয় পাশে মোট ভায়াডাক্ট ৪৯৫ মিটার। এছাড়া ১.৪৬৭ কিলোমিটারের অ্যাপ্রোচ সড়কও নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুর দু’পাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে ৩২.৮৯৫ একর জমি অধিগ্রহণ করায় ১৯২টি পরিবার কোন-না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এদের পুনর্বাসনে ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে ও জমির মূল্যের ৩ গুণ বেশি অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

চীনের চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপ লিমিটেড নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ সেতুটি নির্মাণ করছে। এ সেতুটির অর্থায়নে চীন সরকার ৬৫৪ কোটি ৭৯ হাজার ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ১৬৭ কোটি ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করছে।

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর শহরের ১২তম কিলোমিটারে এ সেতুটির প্রয়োজনীয়তার বিষয় পিরোজপুরের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন জানান- এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ১ কিলোমিটার প্রশস্ত বেকুটিয়া এলাকায় কচা নদী ফেরিতে পাড়াপাড়ে ১ ঘন্টা সময় লাগে। এছাড়া বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ¯্রােতের তীব্র আকারের কারণে এ সময় আরও বেড়ে যায়। এছাড়া ফেরিসমূহ অত্যন্ত পুরাতন ও জরাজীর্ণ হওয়ায় মাঝেমাঝে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হয়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে হাজার হাজার দূরদূরান্তের যাত্রীদের সীমাহীন সমস্যায় পড়তে হয়। সেতুটি চালু হলে দুই ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে বরিশাল-খুলনা শহরে যাতায়াত সম্ভব হবে।

এদিকে দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব হতে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণির মানুষের মুখে মুখে এখন পদ্মা ও বেকুটিয়া সেতু। পিরোজপুর জেলা শহরের সাথে ৪টি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগও নির্ভর করছে এ সেতুটির ওপর।

পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজ প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পদ্মা এবং বেকুটিয়া সেতু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে এ অঞ্চলে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ পরিবর্তন সাধিত হবে এবং মানুষের জীবন যাত্রার মান অকল্পনীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে।’