সর্বশেষ সংবাদ

» ভোলায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা: কৃষকের মুখে হাসি

Published: ০৭. নভে. ২০১৮ | বুধবার

অনলাইন ডেস্ক : আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের মতো এ বছরও ভোলায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। আমনের ফলন নিয়ে লাভবান হওয়ার আশাও করছেন তারা। একই সঙ্গে বাজার দরও বেশি পাবেন বলে আশাবাদি কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জেলায় আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। জেলার সাত উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫ হেক্টর। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫৪০ হেক্টর, দৌলতখান উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৪৫ হেক্টর, বোরহানউদ্দনি উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর, তজুমদ্দনি উপজেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর, লালমোহন উপজেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর, চরফ্যাশন উপজেলায় ৭০ হাজার ৩৩৪ হেক্টর এবং মনপুরা উপজেলায় ১২ হাজার ৩১০ হেক্টর। ধারণা করা হচ্ছে এ বছর ৪ লাখ ২৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।

গত বছর জেলায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। তবে ভোলায় আমনের চাহিদা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮ টন। বাকি চাল জেলার বাইরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, জেলার চাইতে বেশি আমনের আবাদ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলায়। সেখানে এ বছর ৭০ হাজার ৩৩৪ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৬৪টি ব্লকে এ ধানের আবাদ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনতোষ সিকদার জানান, গত বছর চাহিদার পরেও উপজেলায় এক লাখ ৮০ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত ছিলো। এ বছরও অনেক ভালো ফলন হবে।

ভোলা সদরের চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের কৃষাণী বিবি তহমিনা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমনের ফলন অনেক ভালোর দিকে। এ বছর আমরা ২ কানি জমিতে আমনের আবাদ করেছি। ক্ষেতে কোনো পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই।

একই এলাকার কৃষক শাজাহান বলেন, গত বছর আমনের ভালো ফলন হওয়াতে এ বছর ছয় একর জমিতে আমনের আবাদ করেছি, ফলন ভালোর দিকে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর এক লাখ ৩৫ হাজার টাকার ধান বিক্রি করেছি, তাতে খরচ পুষিয়ে ৪০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছি। এ বছরও লাভ হবে বলে আশা করছি।

ভেলুমিয়া চন্দ্র প্রসাদ এলাকার দায়িত্ব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন রায় বলেন, আমনের ফলন ভালো হবে, এ বছর ফসলের কোনো বিপর্যয় নেই। কৃষকরাও অনেক খুশি।