» পিরোজপুর-২ আসনে মহাজোটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জু মাঠে সাঈদীপুত্র মাসুদ

Published: ১৪. নভে. ২০১৮ | বুধবার

অনলাইন ডেস্ক//  পিরোজপুর শহরের সীমানাঘেঁষা কচা এবং বলেশ্বর নদীবিধৌত ইন্দুরকানি, কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসনটি এখন নির্বাচনী প্রচারে জমজমাট হয়ে উঠেছে।

২ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ ভোটার অধ্যুষিত একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কোন দল থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে সরগরম গোটা এলাকা। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এখন দিনরাত ব্যস্ত নির্বাচনী প্রচারে।

চায়ের আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা- শেষ পর্যন্ত কারা হচ্ছেন বড় বড় দলের প্রার্থী। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ১৫ জন প্রার্থী। বিএনপিতে এ সংখ্যা ৪ জন।

১৯৮৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ আসন থেকে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জেপির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান ও মহাজোটের অন্যতম নেতা পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বিভিন্ন সময়ে তিনি ১৮ বছর মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

বিশেষ করে নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের ভোটেও জয়ী হন মঞ্জু। ২০০৮ সালে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ এবং মঞ্জুর নির্বাচনী মাঠে না থাকার সুযোগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চারদলীয় জোটের নূরুল ইসলাম মঞ্জু পান ৫৯ হাজার ৪২৮ ভোট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ইসাহাক আলী খান পান্না তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে মঞ্জু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। আগামী নির্বাচনেও মঞ্জু মহাজোটের শক্তিশালী প্রার্থী।

পুরো এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো এবং সাধারণ মানুষের খুব কাছে যাওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতার কারণে এলাকায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

এ আসনের ইন্দুরকানী উপজেলায় জামায়াতের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়ায়ও জামায়াতের প্রভাব রয়েছে। ফলে মঞ্জুর সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সাঈদীপুত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন, তাহলে লড়াই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে আগে পিরোজপুর-১ আসন ইন্দুরকানি উপজেলাকে (তৎকালীন জিয়ানগর) পাঠিয়ে দেয়া হয় পিরোজপুর-২ আসনে। পিরোজপুর-২ আসন থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেছারাবাদকে যুক্ত করা হয় পিরোজপুর-১ আসনে। ইন্দুরকানিতেই যুদ্ধাপরাধ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বাড়ি।

এ উপজেলায় সাঈদীর বিপুল জনসমর্থন থাকায় তার ছেলে মাসুদ সাঈদী সেখানকার উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শক্ত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী।

আগের মতো এ আসনটি মহাজোটের শরিক জেপিকে (মঞ্জু) ছেড়ে দেয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিএনপিরও এ আসনটি মাসুদ সাঈদীকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পিরোজপুর-২ আসনে ব্যাপক জনপ্রিয় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইসাহাক আলী খান পান্না, আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আমিনুর রশিদ ছগির জোমাদ্দার, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম।

বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছেলে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।

গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম আহসান কবীর। বয়সে তরুণ হলেও তিনি দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।

জানতে চাইলে দলের অপর এক সম্ভাব্য প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে আহসান কবীর বলেন, ‘হাইব্রিড নেতা জোটের প্রার্থী হলেও তিনি ভোট পাবেন না। তাছাড়া সভাপতির পদে থাকা একজন নেতা কী করে বছরের পর বছর এলাকায় আসেন না, নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন না, সেটাও একটা প্রশ্ন।’ দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবারকল্যাণবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ড্যাব নেতা ডা. মো. রফিকুল কবির লাবু। ভাণ্ডারিয়ায় শক্তিশালী পারিবারিক বলয় রয়েছে তার।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জেপির (মঞ্জু) প্রভাবশালী নেতা আতিকুল ইসলাম তালুকদার তার ছোট ভাই। তার মামা জেপির (মঞ্জু) আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জমাদ্দার।

তাছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এনায়েত খান তার মামাতো ভাই।

দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করছি। বাকি সিদ্ধান্ত নেবে দল। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।’ এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ভোটের মাঠে সক্রিয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এই আসনে মনোনয়ন চাইব। আমার বাড়ি ভাণ্ডারিয়ায়। এলাকার ছেলে হিসেবে আমি সাধারণ মানুষের সমর্থন পাব, এটাই স্বাভাবিক।’