» পটুয়াখালীতে ধর্ষণের পরে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয় শিশুটিকে

Published: ১৬. নভে. ২০১৮ | শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক// পটুয়াখালীতে সরকারি শিশু পরিবারে ধর্ষণের শিকার সাত বছরের অবরুদ্ধ শিশুকে অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহায়তার উদ্ধার করা হয়েছে।

ভিকটিমের পরিবারে পক্ষ থেকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিশু পরিবারে গিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

এসময় আরো দুই শিশুকে অবরুদ্ধ অবস্থায় একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পটুয়াখালী সমাজ সেবার উপ-পরিচালক শিলা রানী ও শিশু পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার সহপাঠিদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করে।

ভিকটিমের পরিবার ও শিশু পরিবারের একাধিক শিশু জানায়, গত ১২ নভেম্বর পটুয়াখালী শিশু পরিবারের শিশু সদস্যরা পার্শ্ববর্তী ডিবুয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠদান শেষে শিশু পরিবারে ফিরছিল। এসময় রাস্তার পাশের মোতালেব হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ওই শিশুকে চকোলেট দিয়ে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি পরিবারে ফিরলে রাত ১১টার দিকে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ‘গাছ থেকে পড়ে আহত হয়েছে’ এমন তথ্য দিয়ে ভর্তি করানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পটুয়াখালী সমাজ সেবার উপ-পরিচালক শিলা রানী শিশু পরিবারে নিয়ে ভিকটিমকে নিয়ে আসেন।

ডিডি শিলা রানী ও শিশু পরিবারের সুপার সাবরিন সুলতানা ঘটনা কাউকে না বলতে ভিকটিমসহ অন্যান্য শিশুদের চাপ প্রয়োগ করেন। ঘটনাটি পরে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা ১৪ নভেম্বর শিশু পরিবারের যান। তখন ডিডি ও শিশু পরিবারের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে ভিকটিমকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

এদিকে ঘটনা শুনে ভিকটিমের নানী শিশুটির সাথে দেখা করা চেষ্টা করলে তাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। ১৪ নভেম্বর রাতে ভিকটিমকে নিয়ে থানায় যায় ডিডি শিলা রানী। এসময় থানা কর্তপক্ষ মামলা নিতে চাইলে ডিডি মামলা দিতে নারাজ হয়। এসময় নানী মামলার দাবী জানালে ডিডি তাকে গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেন। ১৫ নভেম্বর নানী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাফিজ। এরপর তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে শিশু পরিবারে যান।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঠদান শেষে অন্তত পৌনে দুইশ শিশু গেটের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এসময় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তাদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি ডিডি শিলা রানী। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাফিজ গিয়ে শিশুদের ভিতরে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেন এবং ভিকটিমের সাথে একান্ত কথা বলেন।

এসময় এডিসি ও উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কাছে আতংকিত অবস্থায় পুরো ঘটনার বিবরণ দেয় শিশুটি।

ভিকটিম শিশুটি জানায়, ডিডি শিলা রানী ও হোষ্টেল সুপার সাবরিন সুলতানা তাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ঘটনা বলতে নিষেধ করেন। গত দুই দিন শিশুটির রক্তক্ষরণ এবং স্পর্শকাতর স্থানে ব্যাথা হলে ডিডি তাকে কোনো প্রকার চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেনি। উল্টো তাকে জোরপূর্বক লোক দেখানো হাঁটা এবং দৌঁড়াতে বলা হয়। যাতে সবাই মনে করেন কিছুই ঘটেনি। ডিডি ও হোস্টেল সুপার মারধরের ভয় দেখিয়ে শিশুদের ঘটনা বলতে নিষেধ করেন বলে জানায় একাধিক শিশু।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিকালে ডিডি শিলা রানী ও শিশু পরিবারের নির্যাতনের প্রতিবাদে গেটের বাইরে বিক্ষোভ করে শিশুরা।

এসময় সংবাদকর্মীদের ভিতরে ঢুকতে ও ছবি তুলতে বাধা দেন শিলা রানী।

এদিকে তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগে শিশু পরিবারের দুই শিশুকে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সহাপাঠিরা এমন ঘটনা উপস্থিত প্রশাসনকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে তাদের কাছ থেকে মৌখিক বিবরণ নেয় প্রশাসন।

এছাড়াও ঘটনা প্রকাশ করার অভিযোগে আরেক শিশুকে মারধর করা হয় বলে জানায় শিশুরা।

এদিকে ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত মোতালেব হোসেনকে বিকালে আটক করেছে পুলিশ।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাফিজ জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।