» নগর ভবন জুড়ে আতংক: হার্ড লাইনে বিসিসি’র মেয়র সাদিক!

Published: ১৯. নভে. ২০১৮ | সোমবার

এম.এস.আই লিমন, অতিথি প্রতিবেদক// বরিশাল সিটি কর্পোরেশন( বিসিসি’র) কর্মরত কর্মকর্তা -কর্মচারীদের মধ্যে আতংকে রয়েছে সিংহ ভাগই। স্বচ্ছ নগর সেবা প্রদানে নগরবাসীদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করনের লক্ষে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সকল দপ্তরের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে। আর পর্যায় ক্রমে যোগ্যদের যথাযথ ভাবে যোগ্যতানুযায়ী দায়িত্ব প্রদান এবং অযোগ্যদের ছাটাই করে বিসিসি’র ফান্ড বাচানোর পদক্ষেপও গ্রহন করেছে বলে জানা গেছে। বিসিসি সূত্রে, আকস্মিক ভাবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব হওলাদারের স্থানে নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মাদ আনিসুজ্জামান কে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়৷চতুর্থ পরিষদের সভায় ১৯ নং ওয়াড কাউন্সিলর গাজী নাাঈমুল হোসেন লিটু
আকস্মিকভাবে মৌখিক ভাবে চলতি দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী’,র দায়িত্বে থাাকা আঃমোতালেব হাাং কে তার স্ব পদে বহাল করে
নির্বাহী প্রকৌশলী বঙ্গবন্ধুপেশা জীবী পরিষদ বিসিসি,’র শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব দেয়ার বিষয় ঘোষনা দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্যানেল মেয়র ১ হিসেবেই ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী টিটু
খিাখিকখিখ নব বিসিসি’র নগর ভবনের প্রশাসনিক দপ্তর থেকে অফিস আদেশে তাদের এ রদবদলের আদেশ দুই জনকে প্রেরন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা আক্তার রুমী। সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের অনুষ্ঠিত নগর ভবনের সভা কক্ষের প্রথম সভায় সমুদ্র চুরী হয়েছে নগর ভবনে এমনটাই দুঃখ্য প্রকাশ করে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে উপস্থাপন করে। এছাড়াও তার বক্তব্যে নগর ভবনে দায়িত্বশীলদের কর্ম অবহেলা, অনিয়ম, দূর্নীতি করা, নগর বাসীদের সেবা প্রদান না করে সেচ্ছাচারিতায় দায়িত্ব পালন করে বেতন ভাতা ভোগ করে আসছে যারা তাদের কর্ম ফল দিতে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেন তিনি।

এছাড়াও বিসিসি’র হিসাব রক্ষন বিভাগে সাবেক পরিষদে প্রতি মাসে আউট সোসিং কর্মচারীদের বেতন/মজুরী বাবদ ১ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে কর্তব্যরতরা ধারাবাহিকতায় প্রতিমাসেই প্রায় ২০ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে কর্তব্যরতদের অর্থের ঢিপিতে একেকজনের আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গিয়েছে। এরকম গুরুতর অনেক অনিয়ম দূর্নীতি’র খোঁজে অডিট করছে মেয়রের একটি তদন্ত দল নগর ভবনের প্রতিটা দপ্তরে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে চিহ্নিত করে ছাটাই করা সহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে হার্ড লাইনে রয়েছে সিটি মেয়র।

কোন ধরনের অভিযোগ অনিয়ম থাকা চলবে না বিসিসি’র কার্যক্রমে বলে স্বচ্ছ কাঙ্খিত সেবার নির্ভর যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশ জনপদের প্রতিবেদককে জানায় বিসিসি’র মেয়র।অনিয়ম দূর্নীতি মূক্ত নিশ্চিত সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিসিকে গড়তে হার্ড লাইনে যাওয়ায় অসাধু কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা রয়েছে থলের বিড়াল লুকিয়ে মহা আতংকে৷ গোটা নগর ভবনেই যেন এ আতংক বিরাজমান রয়েছে। গতকাল সরেজমিনে বিসিসি’র নগর ভবনে তিন তলা ভবনের প্রায় প্রতিটা কক্ষের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অধিকাংশ শ্রমিকদের মধ্যেও আতংকিত হওয়া ছাপে কালচে রঙে কালো হয়েই থাকতে দেখা গেছে৷ মেয়রের নির্দেশনায় চলমান অডিট প্রতিবেদনে নিজেদের নাম মুছতেও চলছে নানান মাধ্যমের লোবিং তদ্বির। সাবেক পরিষদের সময়ে কর ধার্য্য শাখার এ্যাসোসর মোস্তাগাউসুল হক খুশবু একটি গ্যাং করে অবৈধভাবে নানান কার্যক্রম পরিচালনায় অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে আসছিল।

সম্প্রতি পানি’র সেফটি ট্যাংক স্থাপনের অনুমোদন হওয়ার পূর্বেই বড় কর্মকর্তা সেজে ভবন মালিকের কাছ থেকে অর্থ নেয় বিসিসি’র হিসাব নং এ জমা প্রদানের কথা বলে।কিন্তু তা ব্যক্তি হিসাব নং এ ডিপোজিট হয় গ্যাং সদস্যদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা করে।এ গ্যাংয়ের প্রথম ধাপে বিসিসি’র নগর ভবনের নথি চুরী করে ডিলিং এ্যাসিস্ট্যান্ড আবিদ হাসান সহ নতুন গ্যাংয়ের সদস্যরা বিসিসি’র ব্যানার ব্যবহারে অবৈধভাবে সরকারী সড়ক কেটে সেফটি ট্যাংকি বসিয়ে বিসিসিতে জমা দেয়ার কথা বলে অর্থ আত্বস্বাদ করে আসছে। বিসিসিকে ব্যক্তি ব্যবসার অধিক মুনাফা ভোগ করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধ মূলক এহেন কার্যকলাপ করে আসছে মোটা অংকের পাহাড় গড়ার লোভে। এমন অনেক বিভিন্ন অপকর্ম বিগত দিন থেকেই তারা করে আসলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেয় এক ভবন মালিক ।

অভিযোগ পত্রে তিন কর্মচারীদের নাম উল্লেখ্য করে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সচিব মোঃইসরাইল হোসেন বরাবর দাখিল করলে তিনি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।সাবেক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের নিয়োগকৃত একই সাথে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান প্লানেট ওয়াল্ড শিশু পার্কে ১৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে ও বিসিসি’র কর ধার্য্য বিভাগের এ্যাসেসর মোস্তাগাউসুল খুশবু প্রয়াত মেয়রের নাম ভাঙিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দূর্নীতি প্রতারনা নিয়োগ প্রাপ্তি থেকে করে আসলেও অদৃশ্য কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি একই সাথে দুইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বেতন ভোগ করে আাসছে। যা সম্পূর্ণই চাকরী বিধী বহির্ভূত। ক্ষমতাসীন দলীয় সরকার ক্ষমতায় আর সে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার ঘটিয়ে এসে একে একে অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনার মাধ্যমে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকাতে থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারন নগর বাসীরাও অনিশ্চয়তার সেবা প্রাপ্তি’তেও আতংক দেখা দিয়েছে বহুরুপি গ্যাং সদস্যদের একেক সময় একেক চরিত্রে দেখার ফলে। ক্ষমতাসীন দলীয় সাবেক প্রয়াত মেয়রের নিয়োগ কৃত তার আমল থেকে চলমান এহেন অবৈধ কার্যক্রম বিরামহীন ভাবে করে আসলেও বিগত দুই পরিষদে কোন সামান্যতমও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি হাতেমতায়ী ছলা কলায়।

আলোচিত টক অফ দ্যা নগর ভবন থেকে নগরীতে ছড়িয়ে পরা বহুমাত্রিক দূর্নীতির হোতা খুশবু’র কালো থাবায় এর আগে যেভাবে খুশবুতেই দূর্নীতি’র গন্ধ দূর করে আসছে ঠিক সেভাবেই এবারেও ক্ষমতাসীন দলীয় তোকমা লাগিয়ে তার অবৈধ কার্যকলাপ তদন্তে শতভাগ সত্যতা বেরিয়ে আসলেও ক্ষমতাসীল দলীয় বলে পার পেয়ে যাবে নাকি! অপর দিকে যেই হোক না কেন যে দলেরই থাক প্রতিষ্ঠানিক নিয়ম আইন ভঙ্গ করলে নব মেয়র অনিয়ম দূর্নীতেকে প্রস্রয় দেবে না বলেও নগরভবনের কর্তব্যরতদের আলোচনায় তর্ক বিতর্কে নগর ভবন দপ্তরগুলোর টেবিল আলোচনা থেকে উঠে এসেছে। বিশেষ তদন্ত দলের সদস্যরা বিসিসি’র প্রতিটা দপ্তরের অডিট করছে সে কারনেই কর্তব্যরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের হিসাব ৪ মাসে পৌছালেও তা প্রদান করা হচ্ছে না। অডিট শেষ হওয়া মাত্রই বেতন ভাতা প্রদান করা হবে বলেও সূত্রে জানা।

বিসিসিতে স্থায়ী পাঁচশত এবং অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২১ শতর মত যার বেতন ভাতা পরিশোধ করতে প্রতিনিয়তই বেগ পেতে হতে হচ্ছে।যার ফলে প্রতিনিয়ত বকেয়া পরে থাকে বেতনের হিসাব। কাজ না করে বেতন ভাতা ভোগ করে আসা কতিপয়দের তালিকা করা হচ্ছে অডিটে। পর্যায়ক্রমে তালিকা ধরে বাড়তি কর্মচারী ছাটাই করা হবে বলেও জানা গেছে। সর্বপরি সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় নির্বাচিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন(বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ টেকশই উন্নত নগরী এবং এ নগরীর নগরবাসীদের নগরসেবা দোড় গোয়ায় পৌছে দেয়ার অঙ্গিকার করায় হার্ড লাইনে কঠোর নজরদারিতে কার্যক্রম পর্যালোচনা করায় মহা আতংকে রয়েছে প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সহ শ্রমিকরা।