» বরিশাল-২ আসনে আ.লীগে এমপি বিরোধী জোট, সান্টু-জামালের লড়াই বিএনপিতে

Published: ১৯. নভে. ২০১৮ | সোমবার

অনলাইন ডেস্ক// বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় ১২০ (বরিশাল-২) আসনে এবার প্রার্থী সংখ্যা ৩৮। মনোনয়ন পেতে যার যার অবস্থান থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যাশীরা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর সংখ্যা ক্ষমতাশীন আ.লীগের। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব প্রকট হয়ে ওঠায় এবং বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মো: ইউনুসকে ঠেকাতে এত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। জানা গেছে এই আসনে আ.লীগের প্রার্থী সংখ্যা ২১ জন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যায় ২য় অবস্থানে রয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ১০।

এছাড়া জাতীয় পার্টির ২, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একজন, জাসদ আম্বিয়া গ্রুপের ২জন, জাসদ ইনু গ্রুপের একজন এবং ওয়াকার্স পার্টির একজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এই ৩৮ জনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস। খোদ আ.লীগের নেতাকর্মীরাই তার বিরোধী শিবির গড়ে তুলেছেন। আ.লীগের নেতারা দাবী করেছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য বানারীপাড়া-উজিরপুরের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তার চেয়ে যোগ্য অনেক নেতা রয়েছেন এই আসনে। দলের সভানেত্রীর সুনজর কামনা করেছেন যেন, স্থানীয় যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।

পাশাপাশি জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যাকান্ডে তালুকদার মো: ইউনুসের ঘনিষ্ঠজনদের দায়ী করে ‘ইউনুস বিরোধী’ শিবির আরও শক্তি সংগ্রহ করছেন। দলগতভাবে আ.লীগের বাকি ২০ জন প্রার্থীর চেয়ে তালুকদার মো: ইউনুস বেশ শক্তিশালী। এছাড়াও কেন্দ্রে ক্লিন ইমেজ রয়েছে এই আইনজীবী সংসদ সদস্যের। সংসদীয় আসনে কোন ধরনের টেন্ডারবাজী-চাঁদাবাজী-অস্ত্র ভান্ডার গঠন বা নিজস্ব বাহিনী গঠন না করায় রয়েছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সুনজর। যে কারনে সংসদীয় আসনের আ.লীগের নেতারা ও ভোটাররা বিরোধীতা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন তালুকদার মো: ইউনুসই।

ওদিকে ‘ইউনুস ঠেকাও’ ঐক্যে বাকি ২০ জন হলেন, তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহে আলম, বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব গোলাম ফারুক, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কার্যকরী সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন, শের-ই বাংলার দৌহিত্র এ.কে ফাইয়াজুল হক রাজু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের সেরনিয়াবাত খোকন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও অথনৈতিক দর্শন নিয়ে গবেষণারত ইঞ্জিনিয়ার আ. রাজ্জাক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আ. হামিদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুখেন্দু শেখর বৈদ্য, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সিকদার এ.কে আজাদ, বিটিভির সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য সুজন হালদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সবুজ মোল্লা, বুল বুল আহম্মেদ, আশিকুর রহমান, মোস্তফা কামাল মন্টু, মারুফ আহম্মেদ কাজল, দিপীকা রানী সমদ্দার।

যে কোন কারনে তালুকদার মো: ইউনুসের মনোনয়ন হাতছাড়া হলে চারজনের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই চারজন হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহে আলম, বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব গোলাম ফারুক, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কার্যকরী সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন। ওদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের সেরনিয়াবাত খোকন মনোনয়ন দৌঁড়ে সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকলেও সিটি নির্বাচনের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকিদের বিষয়ে এলাকায় এবং দলে তেমন কোন আলোচনা শোনা যায়নি।

ওদিকে বিএনপির ১০ জনের মধ্যে তিনজন জায়ান্ট নেতার মধ্যে মনোনয় যুদ্ধ জমজমাট হচ্ছে। এই তিনজন নেতা হলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল ও এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু। এরমধ্যে আলাল সরে দাড়াতে পারেন। কারন তিনি বরিশাল-৩ আসন থেকে বিএনপির হয়ে আরও একটি মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। সেখানে মনোনয়ন পেলে বরিশাল-২ আসন থেকে সড়ে দাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে তার।

ফলে সান্টু ও জামালের মধ্যে মনোনয়ন লড়াই চলছে তুমুল। ওদিকে বাকি ৭জন প্রত্যাশী হলেন, রওনকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল হোসেন, সাবেক ইউপি চেযারম্যান ফিরোজ হোসেন, এ্যাড. এসএম খসরু জামান, এ্যাড. হুমায়ূন কবির মঞ্জু, এসএম বাবর ও কর্নেল (অব:) সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দলে বা ভোটারদের মাঝে এই সাতজন কোনদিক থেকেই আলোচনায় নেই। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন অধ্যক্ষ হারিছ মিজান ও নাসিম হালদার। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন নেছার উদ্দিন। জাসদ আম্বিয়া গ্রুপ থেকে মো: আনিস ও আবুল কালাম আজাদ বাদল এবং জাসদ ইনু আর ওযাকার্স পার্টি থেকে একজন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

প্রসঙ্গত, বরিশাল-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে উজিরপুর উপজেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ১ ভোট। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৯৩ হাজার ৬৬২ জন ও নারী ভোটার ৯১ হাজার ৩৩৯ জন। বানারীপাড়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৮ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৫৯ হাজার ৫৮৮ ও নারী ভোটার ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৬টি এর মধ্যে উজিরপুরে ৮৩টি ও বানারীপাড়ায় ৫৩টি কেন্দ্র।