» বরিশালে জমে উঠেছে শীতবস্ত্র বেচাকেনা

Published: ২০. নভে. ২০১৮ | মঙ্গলবার

শামীম আহমেদ, ॥ বরিশালে ফুটপাতে চলছে শীতবস্ত্রের জমজমাট বেচা-কেনা। মধ্যবৃত্ত, নিম্ন মধ্যবৃত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষসহ প্রায় সকল শ্রেণীপেশার মানুষ ফুটপাত বাজারগুলো থেকে শীতের কাপড় কেনাকাটা করছে। দক্ষিনাঞ্চলে বইছে শীতের হিমেল হাওয়া। গ্রামের তুলনায় শহরে শীতের তীব্রতা কম। এরপরও সর্দি, কাশিসহ শীতকালীন নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন বরিশালবাসী। কিনছেন হালকা ও মাঝারি ধরনের শীতের গরম পোশাক।

সোমবার রাতে নগরের জেলা পরিষদের সামনে দেখা যায় ক্রেতাদের ভীড় শুধু তাই নয় হাজী মোহাম্মাদ মহাসিন মার্কেট, সিটি মার্কেট,নতুল্লাবাদ বাস ট্রার্মিনাল,রূপাতলী বাস টার্মিনাল,লঞ্চঘাট, সদর রোর্ডসহ বরিশাল নগরের বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে শীতবস্ত্র বেচা-কেনার তীব্র ভিড়। মানুষকে ঈদ বাজারের মত আগ্রহ নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে দেখা গেছে। ভিড়ের কারণে দরাদরি ও যাচাইবাচাই করে কেনার সুযোগ অনেকটা কম পাচ্ছে ক্রেতারা। শুধু শীতের কাপড় পছন্দ হলেই একদাম কিনছে।

কালেক্টর সামনে ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ী সালাম বলেন, আমরা বছরে ঈদ-কোরবানী ছাড়া এই শীতে একটু বাড়তি ব্যবসা কারার সুযোগ পেয়ে থাকি। তবে সব বছর আবার এ সুযোগ পাওয়া যায় না বলে তিনি জানান।

অন্য ব্যাবসায়ী শহিদ বলেন, গত বছরও শীতবস্ত্রের মার্কেট জমজমাট ছিল। তবে এবার শীত আসতেই ক্রেতারা আগে ভাগে শীতের কাপর কিনে নিচ্ছে।

পলাশপুরের বাসিন্দা সাহিদা বেগম বলেন, শীতের প্রভাব বেশি পড়ার আগেই এবার শীতের পোষাক কেনার জন্য ফুটপাতের মার্কেটে আসছি। তিনি আরো বলেন,আমরা গরীব তাই আমাদের বেশি দামের পোষাক কেনার সামার্থ্য নেই। তাই ফুটপাতের পেষাকই আমাদের ভরসা।

অন্য দিকে জর্ডন রোড এলাকার বাসিন্দা হামিদা বেগম বলেন, শীত শুরুর আগেই মার্কেটে ভীড়। মানুষের ভিড়ের কারণে দোকানেই ঢোকা যাচ্ছে না। দরদাম করে কেনাতো পরের কথা। তার পরও একটু আগে ভাগে কিনতে আসলাম। না হলে পরে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে।

সরেজমিন মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীত বস্ত্রের মধ্যে বেশি বেচা-বিক্রি হচ্ছে- ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাত মোজা, মাপলা, স্যুায়েটার, জাম্পার, পুলহাতা গেঞ্জির দোকানেই বেশি ভিড় দেখা গেছে। মহাসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটের কম্বল দোকানগুলোতেও তীব্র ভিড় দেখা গেছে। শীত বস্ত্রের দোকানে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে বিক্রেতারাও অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ক্রিতারা।

বরিশাল সদর উপজেলার সাবেরহাট থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনে ফুটপাতে দোকানে শীতবস্ত্র কিনতে আসা নুর-জাহান বেগম সাথে কথা হয়।

তিনি বলেন, বচ্চাদের শীতের কাপড় আগে যেটা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় কেনা যেত এখন সেটা কিনতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে। তিনি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। সিটি কর্পোরেশনের আশপাশের পোশাকের দোকানে অনেকেই কিনছেন শীতের পোশাক। বিক্রেতারা বসেছেন গরম কাপড়ের পসরা সাজিয়ে। নগরীর আনাচে- কানাচে ঘুরে ভ্যান গাড়িতে করে যারা ফেরিওয়ালা হিসাবে শীতের পোশাক বিক্রেতারা শীতের পোশাক বিক্রি করছে তাদের ব্যবসাও জমজমাট।

শীতের পোশাক কিনছেন আসা শাহানাজ পারভীন বলেন, তিনি পরিবারের জন্য শীতের চাদর ও সোয়েটার কিনেছেন। এখন তো আর হাড় কাঁপানো শীত নেই। তবে রাতের বেলায় কিছুটা শীত পড়ছে। আর এতেই সর্দি, কাশি হচ্ছে শিশুদের। তাই শীতের হালকা গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে।

নগরের মাহাসিন মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী বাদশা হোসেন বলেন, আমরা কমদাম, বেশিদাম সব লক্ষ করা গেছে, মৌসুমের শুরুতেই এবার বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট, কোর্ট, টুপিসহ বাচ্চাদের নানা রংয়ের ও ডিজাইনের শীতের পোশাক। বরিশাল নগরের সদর রোড, লঞ্চঘাট, জেলা পরিষদের সম্মুখে, বিএম স্কুল গেট, নতুন বাজার, রুপাতলী, কাশীপুর বাজার, মরকখোলার পুল, নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনাল, সাগরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের ওপর ও ভ্যান গাড়ীতে করে বাহারী রঙ্গের শীত বস্ত্র বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা সিংহ ভাগই মৌসুমী পোশাক বিক্রেতা। ভ্যান গাড়িতে করেও এলাকা ভিত্তিক বিক্রি হচ্ছে শীতের গরম পোশাক। তবে এর দাম কম। এখানে শীতের পোশাক বিক্রির জন্য বিশেষ মার্কেট হচ্ছে মহসিন মার্কেট। সেখানেও পুরনো কাপড়ের গাইড এনে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। তবুও এর মান ভাল এবং দাম তুলনা মূলক কম। তাই মধ্য বিত্তদের পাশাপাশি নগরীর বিত্তবানদেরও এ মার্কেটে শীতের পোশাক কিনতে ভির করতে দেখা যাচ্ছে।

মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ জানান, শীতের শুরুতেই তাদের বেচা- কেনা মোটামুটি ভাল ভাবেই চলছে। কিন্তু শীত আর একটু বাড়লেই ক্রেতারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। জেলা পরিষদের সম্মুখে শীতের পোশাক ক্রয় করতে আসা রিকসা চালক আলী বলেন, অল্পদামেই প্রতি বছর এ ফুটপাত থেকে সে পোশাক ক্রয় করেন। চলতি মৌসুমের এতদিন তার পোশাক কেনার দরকার হয়নি। পুরনো যা ২/১ টা ছিল তা দিয়েই চালিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজ শীতে টিকতে না পেরে এখানে এসে নিজের জন্য ও স্ত্রী সন্তানদের খুব কম দামের কয়েকটি গরম কাপড় ক্রয় করেছেন।